ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

গাজীপুরে রক্তাক্ত রাত: এক ঘরে ৫ লাশ, উধাও গৃহকর্তা

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

গাজীপুরে রক্তাক্ত রাত: এক ঘরে ৫ লাশ, উধাও গৃহকর্তা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে একই পরিবারের পাঁচজনের গলা কাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনা। শনিবার সকালে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে ভাড়া বাসা থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্বাক্ষরবিহীন খসড়া অভিযোগপত্র ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি বঁটি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক বিরোধ এবং দাম্পত্য সন্দেহের জের ধরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে পুলিশ, পিবিআই, ডিবি ও সিআইডির একাধিক দল।

যাদের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিয়া (২) ও শ্যালক রসুল মিয়ার (২২)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিন শিশুর মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শাড়ি ও গহনা পরিহিত অবস্থায় শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা লাশ জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘর থেকে একটি ধারালো বঁটি উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া স্বাক্ষরবিহীন খসড়া অভিযোগপত্রটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসির উদ্দেশে লেখা। সেখানে ফোরকান তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শ্যালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফোরকানের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে শ্বশুর জমি কিনেছেন। এছাড়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে এক আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তোলা হয়। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলায় গত ৩ মে তাকে আটকে রেখে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও খসড়ায় দাবি করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান তার চাচাতো ভাই আবু মুসা এবং স্ত্রীর ভাই জব্বার আলীকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।

তবে ঘটনার পর থেকেই ফোরকান নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

নিহত শারমিনের ভাই শামীম দাবি করেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার রসুলকে বাসায় ডেকে নিয়েছিলেন ফোরকান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফোরকান মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার বাসা থেকে মদের বোতল ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

পুলিশের কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি খসড়া অভিযোগ ও একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একযোগে কাজ করছে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি। সন্দেহভাজন ফোরকানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!