ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে দুই কিশোরের বন্দুক হামলা, নিরাপত্তাকর্মীসহ নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে দুই কিশোরের বন্দুক হামলা, নিরাপত্তাকর্মীসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের একটি মসজিদে দুই কিশোরের বন্দুক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর পুলিশের তাড়া খেয়ে সন্দেহভাজন দুই হামলাকারী কিশোর গাড়ির ভেতরে নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল সোমবার (১৮ মে) সকালে সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ প্রাঙ্গণে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশ এটিকে একটি ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। এই ঘটনায় মার্কিন মুসলিম কমিউনিটিসহ বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহ্ল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে সন্দেহভাজন এক কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বাড়ি থেকে কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেছে। তার সঙ্গে সামরিক পোশাক পরা (ক্যামোফ্লাজ) আরও এক তরুণ রয়েছে।

পুলিশ যখন ওই মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজখবর নিচ্ছিল, ঠিক তখনই স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে ইসলামিক সেন্টারে গুলির খবর আসে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদের সামনে তিনজনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।

নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন। আট সন্তানের জনক এই নিরাপত্তাকর্মী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীদের পথরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহ্ল তার সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, "তার কাজ ছিল সত্যিকারের বীরত্বপূর্ণ। তিনি নিজের জীবন দিয়ে আজ নিঃসন্দেহে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। তা না হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বড় হতে পারত।" হামলার সময় মসজিদের ভেতরে থাকা ‘আল রশিদ স্কুল’-এর অসংখ্য শিশু ও ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। মসজিদ প্রাঙ্গণে তাণ্ডব চালিয়ে পালানোর সময় তারা রাস্তায় এক ল্যান্ডস্কেপ কর্মীকে লক্ষ্য করেও গুলি চালায়। তবে নিরাপত্তা হেলমেট থাকায় তিনি অলৌকিক উপায়ে বেঁচে যান।

এর কিছুক্ষণ পর মসজিদ থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে একটি শপিং মলের পাশে সন্দেহভাজনদের গাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। তবে পুলিশ কোনো গুলি চালানোর আগেই ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই হামলাকারী কিশোর গাড়ির ভেতরে নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী এক কিশোরের বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে চরম মুসলিমবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ লেখা ছিল। তবে নির্দিষ্ট করে এই মসজিদটিতে হামলার কোনো আগাম হুমকি বা পরিকল্পনার কথা সেখানে উল্লেখ ছিল না।

আসন্ন ঈদুল আজহার আগমুহূর্তে উপাসনালয়ে এমন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম। তিনি বলেন, "এটি অত্যন্ত আতঙ্কজনক ও কাপুরুষোচিত হামলা। উপাসনালয় হলো শান্তির জায়গা, কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।"

এদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, "আমাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।"

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!