ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংকট নিরসনে এবং একটি সফল চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে পাকিস্তান যে মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে কাতার সরকার।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি এই তথ্য জানান। দোহায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি চলমান উত্তেজনা ও পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক তৎপরতার নানা দিক তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাতারি মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি বলেন, “উভয় পক্ষকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) কাছাকাছি নিয়ে আসতে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে পাকিস্তানের যে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, আমরা তাকে স্বাগত ও সমর্থন জানাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পাকিস্তান এই বিষয়ে তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও জটিলতা কাটিয়ে একটি চূড়ান্ত টেকসই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
এদিকে ওয়াশিংটনে এক নাটকীয় ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ধরনের পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা চালানোর কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের তিন বন্ধুপ্রতিম দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের শীর্ষ নেতাদের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সামরিক অভিযান বাতিল বা স্থগিত করেছেন।
গত সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এই তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বর্তমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত তৎপর। তারা মার্কিন প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আলোচনার টেবিল থেকেই এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব, যা একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য “যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য” হবে।
ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক ও তেল অবকাঠামোতে তীব্র হামলার যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, আরব দেশগুলোর যৌথ হস্তক্ষেপে তা সাময়িকভাবে থমকে দাঁড়াল। ইরান থেকে কম মূল্যে তেল কেনা নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখতে পাকিস্তান ও কাতার এখন মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
তবে ট্রাম্পের এই সাময়িক নমনীয়তা কতদিন বজায় থাকে এবং তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে রিয়াদের দেওয়া শর্তে রাজি হয় কিনা তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :