ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News
ট্রাম্পের হুংকার

‘অবিলম্বে খুলতে হবে হরমুজ প্রণালি’, ওদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

‘অবিলম্বে খুলতে হবে হরমুজ প্রণালি’, ওদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ ও কূটনীতির এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবিলম্বে উন্মুক্ত করার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননে তীব্র বিমান হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে মঙ্গলবারের (১৯ মে) এই ইসরায়েলি হামলায় তিন শিশু ও তিন নারীসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (২০ মে) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন অবস্থানের কথা জানান।

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও পারস্য উপসাগরের অচলাবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের হরমুজ প্রণালি খুলতে হবে এবং এটি অবিলম্বে, এখনই খুলে দেওয়া উচিত।”

তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে মার্কিন প্রশাসনের কোনো তাড়া নেই বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, “চুক্তির জন্য আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আমি শুধু দেখতে চাই তারা (ইরানের নেতৃত্ব) তাদের নিজেদের জনগণের জন্য সেরা কিছু চায় কি না।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, “বর্তমানে ইরানিদের মধ্যে অনেক ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে, কারণ সেখানকার মানুষ খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। সেখানে এখন এমন অস্থিরতা চলছে যা আমরা আগে কখনো দেখিনি। দেখা যাক এরপর কী হয়।”

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন ওয়াশিংটনে আলোচনার টেবিলে বসার কথা বলছেন, তখন তার প্রধান মিত্র ইসরায়েল লেবাননে নতুন করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।

লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি’ জানায়, নিহতদের মধ্যে ১২ জনই মারা গেছেন একটি নির্দিষ্ট হামলায়। দক্ষিণ লেবাননের দেইর কানুন আল-নাহর শহরের একটি আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ফাইটার জেট থেকে এই ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও তিন নারী রয়েছেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই সুনির্দিষ্ট বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা দাবি করেছে, ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় একজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়।

লেবাননে ইসরায়েলের এই নতুন আগ্রাসন এমন এক সময়ে ঘটল, যার এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে লেবানন ও ইসরায়েল তাদের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে। আগামী মাসে এই বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

ইতিহাস বলছে, চলতি বছরের ২রা মার্চ ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ত্রিমুখী যুদ্ধে লেবানন জড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পাঁচ সপ্তাহ আগে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঠপর্যায়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা এক দিনের জন্যও থামেনি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে ইরানের ওপর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছেন, অন্যদিকে ইসরায়েলকে লেবানন ও সিরিয়ায় ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছেন। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্প এখনই সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে তেহরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষকে পুঁজি করে তাদের ‘আত্মসমর্পণ’ বা একটি একতরফা চুক্তিতে বাধ্য করতে চাচ্ছেন। তবে লেবাননে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত পুরো অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তিশৃঙ্খলাকে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!