পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক মিশনে ‘ন্যাটো’র ভূমিকা রাখা ঠিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। প্যারিস মনে করে, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল ইস্যু উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, “হরমুজ প্রণালি এবং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দীর্ঘদিনের। উত্তর আটলান্টিক চুক্তি মূলত উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এবং এটি সেখানেই প্রযোজ্য। মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়া বা হস্তক্ষেপ করা ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্যও নয়, আবার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখেও এটি সেই উপযুক্ত জোট নয়।”
ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার হুংকার দিচ্ছেন, তখন ইউরোপের অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি ফ্রান্সের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার কয়েকটি মিত্র দেশ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটোর অধীনে একটি যৌথ আন্তর্জাতিক নৌ-মিশন গঠনের যে পরিকল্পনা করছে, ফ্রান্সের এই আপত্তির কারণে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।
ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের নীতি হলো- ইউরোপের বাইরের কোনো আঞ্চলিক সংঘাত বা জলপথের বিরোধে ন্যাটোকে সরাসরি জড়ানো ঠিক হবে না। কারণ এতে করে ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ন্যাটোর উপস্থিতি রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলোকে উসকে দিয়ে সংকটকে আরও বৈশ্বিক রূপ দিতে পারে।
খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা নিরসনে প্যারিস সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে মধ্যস্থতা ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :