ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

আতঙ্কের জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে দেশের আধুনিক মেগা কারাগার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

আতঙ্কের জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে দেশের আধুনিক মেগা কারাগার

এক সময় চট্টগ্রামের যে পাহাড়ি অঞ্চলটি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ও ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই জঙ্গল সলিমপুরেই গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের অন্যতম আধুনিক মেগা কারাগার। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে বিচারাধীন মামলার প্রায় দুই হাজার বন্দিকে এই নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

সন্ত্রাসীদের হটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এই এলাকায় নতুন কারাগার নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ৭০ একর সরকারি খাস জমি বরাদ্দ চেয়েছে জেলা প্রশাসন। এই কারাগারে বন্দিদের শুধু আটকে রাখাই হবে না, বরং তাদের পুনর্বাসন ও সংশোধনের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ১৪০ বছরের পুরোনো স্থাপনাটি এখন অতিরিক্ত বন্দির চাপে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ২ হাজার ২৪৯ জন হলেও সেখানে বর্তমানে ৬ হাজার ৩৩৮ জন বন্দি গাদাগাদি করে রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, “পুরোনো কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ বেশি বন্দি থাকায় তীব্র ওভারলোড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের মতো মেগা সিটির প্রয়োজন মেটাতে এবং বন্দি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে জঙ্গল সলিমপুরে একটি আধুনিক কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি (প্রিজন) মো. ছগির মিয়া জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরে নতুন কারাগারটি নির্মিত হলে সেখানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার হাজতি ও কয়েদিদের রাখা হবে। এর ফলে জেলা ও মহানগরের বন্দিদের আলাদা রাখা সম্ভব হবে, যা কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের স্বস্তি দেবে। জমি বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন পাওয়া গেলেই দ্রুত এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী এবং মহানগরের বায়েজিদ ও খুলশী এলাকার সীমান্তবর্তী জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে দেড় লাখের বেশি মানুষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি ছিলেন। একাধিক উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রক্তক্ষয়ী বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি কয়েক মাস আগেও এখানে এক র‍্যাব সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব-পুলিশের সমন্বিত অভিযানে এলাকাটি এখন শান্ত। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন কারাগারটি প্রথাগত জেলের চেয়ে একটি ‘সংশোধনাগার’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে বন্দিদের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা, আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মুক্তির পর তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই পাহাড়ি অঞ্চলে কারাগার নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রামের হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, “প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে যদি পরিকল্পিতভাবে এই কারাগার নির্মাণ করা হয়, তবে এটি মানবাধিকার রক্ষা ও অপরাধী সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও যুগান্তকারী উদ্যোগ হবে।”

এক সময়ের অশান্ত ও আতঙ্কের জনপদ জঙ্গল সলিমপুর এখন অপরাধ সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার একটি আধুনিক কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের এই পরিকল্পনায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!