ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

ঢাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ‘এআই ক্যামেরা’: এক সপ্তাহেই ৮ শতাধিক মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

ঢাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ‘এআই ক্যামেরা’: এক সপ্তাহেই ৮ শতাধিক মামলা

রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও চালকদের নিয়মের মধ্যে আনতে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিশেষ ক্যামেরা। স্বয়ংক্রিয় এই প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র এক সপ্তাহে আট শতাধিক ট্রাফিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, শিগগিরই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরও প্রায় দেড় হাজার এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো এআই ক্যামেরার মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় ১২ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই ব্যবহারকে নগরবাসী ইতিবাচকভাবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার সড়কে লেনের শৃঙ্খলা না ফিরলে এআই প্রযুক্তির শতভাগ সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো-নিয়ম ভাঙলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা ফাইল হয়ে যাচ্ছে, ফলে ট্রাফিক পুলিশের প্রচলিত ‘তদবির সংস্কৃতি’ অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। সম্প্রতি গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার গতিতে চলা একটি সাদা প্রাইভেটকারকে চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয় মামলা দেয় এআই ক্যামেরা।

এমনকি এই ক্যামেরার চোখ এড়াতে পারেননি বিচারক, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। ট্রাফিক আইন অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। কেবল দিনে নয়, রাতের অন্ধকারেও গাড়ির ভেতরের অনিয়ম নিখুঁতভাবে ধরে ফেলছে এই ক্যামেরা।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, "এআই ব্যবহারের সবচেয়ে সন্তুষ্টির জায়গা হলো এখানে কোনো তদবির চলে না। আগে নিয়ম ভাঙা গাড়ি আটকানোর সঙ্গে সঙ্গে ওপর মহল থেকে ফোন চলে আসত। এখন ফোন করতে হলে ক্যামেরাকে করতে হবে, কিন্তু ক্যামেরাতো আর ফোনের উত্তর দেবে না।"

প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পর বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ক্যামেরাগুলো প্রতিটি গাড়ির গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।

ডিএমপির এসআই লেলিন কান্তি হাওলাদার জানান, সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা (যেমন ৮০ কিলোমিটার) পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এআই সিস্টেম সংকেত দেয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা রুজু হয়।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সড়কে প্রতিদিন অন্তত ২০ লাখ যানবাহন চলাচল করে। এত বিশাল সংখ্যক গাড়ির ওপর নজরদারিতে এআই অত্যন্ত কার্যকর হলেও কিছু কারিগরি ও বাস্তবসম্মত জটিলতার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ সাইফুন নেওয়াজ বলেন, "আমাদের সড়কে লেন ডিসিপ্লিন বা নির্দিষ্ট লেনে গাড়ি চলার নিয়ম এখনো প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। একই রাস্তায় বড় বাস, প্রাইভেটকার, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল এলোমেলোভাবে চলছে। এই অবস্থায় লেন ঠিক না থাকলে এআই দিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ করা কঠিন।"

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো গাড়ির নম্বর প্লেট যদি অস্পষ্ট বা নোংরা থাকে, তবে ক্যামেরা ভুল নম্বর চিহ্নিত করতে পারে। এছাড়া কোনো অনিবন্ধিত অবৈধ যান নিয়ম ভেঙে চলে গেলে এবং তার পাশে থাকা একটি বৈধ যান নিয়মের বেড়াজালে আটকে গেলে চালকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

ডিএমপির আইটি বিভাগ জানিয়েছে, শুধু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনই নয়, রাজধানীর নিরাপত্তা ও গাড়ি চুরি রোধেও এই এআই ক্যামেরাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোনো চুরির গাড়ির নম্বর সিস্টেমে এন্ট্রি করা থাকলে, গাড়িটি ক্যামেরার সামনে পড়া মাত্রই কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ট চলে যাবে।

ডিজিটাল ঢাকা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই প্রযুক্তির পরিধি পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি প্রশাসন।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!