রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
অন্যদিকে, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকেই নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে তৎপর রয়েছে। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি এরই মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অপরাধীই অপরাধ করে পার পাবে না এবং রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দৃষ্টান্তমূলক হবে।
এদিকে, শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ডিএমপি কমিশনারকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “এই নির্মম ও পৈশাচিক অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ডে-টু-ডে (প্রতিদিন) শুনানির ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পায়।”
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পল্লবীর একটি এলাকা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সুরতহাল ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে জানা যায়। এই চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের পর পল্লবী থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেফতার করে।
রাজধানীর বুকে এক শিশুকে এভাবে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার ঘটনায় পল্লবীসহ পুরো ঢাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করছেন এলাকাবাসী। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দিয়ে বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন :