ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News
শিশু রামিসা হত্যা

১ জুন বিচার শুরু; ঘাতক সোহেলের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

১ জুন বিচার শুরু; ঘাতক সোহেলের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী

ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি মো. সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের (এজাহারে রূপা আক্তার) বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আজ রোববার (২৪ মে) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে আগামী ১ জুন (সোমবার) চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হতে পারে।

এদিকে, এই জঘন্য অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ আদালতে শুনানির সময় অপরাধীদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। ঢাকা আইনজীবী সমিতি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, শিশু রামিসার হত্যাকারীদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ওকালতনামা সই করবেন না।

আজ দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রামিসাকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে আমরা ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছি। সিআইডির সহায়তায় মাত্র তিন দিনে ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট সম্পন্ন করে গতকাল রাতেই চার্জশিট কম্পাইল করা হয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, “আদালতের ছুটি থাকলেও এই মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির (চিফ জাস্টিস) সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করছে। আমরা আশা করছি, আগামী ১ জুন চার্জ গঠনের পর মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই বিচারিক কাজ সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা হবে।”

গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা। জবানবন্দিতে সে জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তার কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। ঘটনার আগে সে তীব্র মাত্রায় ‘ইয়াবা’ সেবন করে বিকৃত যৌন লালসা থেকে এই কাজ করেছে।

মামলার বিবরণ ও জবানবন্দি থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে কৌশলে নিজেদের রুমে ডেকে নেয়। এরপর বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে বর্বরভাবে ধর্ষণ করে সোহেল রানা। পাশবিক নির্যাতনে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

এরই মধ্যে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং ওই ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়েন। এ সময় ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বাথরুমের ভেতরেই ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার গলা কেটে হত্যা করে সোহেল। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে মাথা কেটে আলাদা করে একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির ভেতর লুকিয়ে রাখে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে। পরে লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় ঘাতক সোহেল রানা।

বিকেলে আদালত চত্বরে শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের মহানগর আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত জঘন্য ও স্পর্শকাতর একটি মামলা। মাত্র ৫ দিনে চার্জশিট দিয়ে পুলিশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিজ্ঞানসম্মত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও ডিএনএ রিপোর্ট আমাদের পক্ষে আছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছি।”

গত ২১ মে রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পল্লবীতে নিহত রামিসার বাসায় গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং ঈদের আগেই আইনি প্রক্রিয়া শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নৃশংস এই ঘটনার পর থেকে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিবাদী কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!