সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬–এর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই, সম্ভবত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন এই বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশিত হতে পারে। গত সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই পে স্কেলটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসার পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাই শেষে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
নতুন পে স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকলেও মূল বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হচ্ছে।
তবে বর্ধিত এই বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতনের এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে। এর মধ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ এবং পরের দুই ধাপে ২৫ শতাংশ করে বাড়বে।
আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ এবং পরের দুই ধাপে ৩০ শতাংশ করে বাড়বে। নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেলের ঘোষণাকে সরকারি কর্মচারীরা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন। আন্তমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করাকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতো নিচের স্তরের কর্মচারীদের জন্যও সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, নতুন পে স্কেলের কারণে অর্থনীতিতে কিছুটা চাপের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। কিন্তু সমান হারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ না বাড়লে বাসাভাড়া, যাতায়াত ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রাখলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের আয়বৈষম্য আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।


আপনার মতামত লিখুন :