ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

চাঁদার দাবিতে বন্ধ ব্যবসা-নির্মাণকাজ, উদ্বেগ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

চাঁদার দাবিতে বন্ধ ব্যবসা-নির্মাণকাজ, উদ্বেগ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে

ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা এর একটি উদাহরণ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সজীব ব্যাপারীর অভিযোগ, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একদল যুবক অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় জমিতে ভবন নির্মাণ করতে গিয়েও চাঁদা দাবির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক প্লট ও ভবনমালিক। ব্যবসায়ী মোদাচ্ছের হোসেনের দাবি, নির্মাণকাজ শুরু করার পর তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। হুমকির মুখে একপর্যায়ে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তিনি।

একই এলাকার সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকায় দশতলা ভবনের নির্মাণকাজও চাঁদা দাবির কারণে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডেফোডিল হোমস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। তাঁর দাবি, ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল এবং হুমকির কারণে কয়েক দফায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলাও করেছেন।

সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়িমালিক কল্যাণ সমিতির নেতাদের দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট বা ভবনের মালিক চাঁদা দাবির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি ও মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাহিনীর গাফিলতির কথা নাকচ করেছে। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপরাধের ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদাবাজি ও দখলের মতো অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হকের ভাষ্য, ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি অংশ অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার নামে শক্তি প্রয়োগ করে দখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এসব অপরাধ ঠেকাতে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ জরুরি।

চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনায় সরকারি দলের কারও কারও নাম আসার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে সরকারি দলের কেউ এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও উড়িয়ে দেননি তিনি। তাঁর মতে, অপরাধের শিকার মানুষ প্রতিকার না পেলে এর দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তাবে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, জমি দখল ও নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: বিবিসি

 

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!