ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:১৪ এএম

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে পুরোপুরি খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তাঁর পক্ষে এই আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। এর আগে একই মামলায় ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আরেকটি আপিল দায়ের করা হয়েছিল।

গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা মোট আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল প্রতিটি অভিযোগে তাঁকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন যে, এই তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে, যার ফলে তাঁকে মোট ১০ বছরই কারাগারে কাটাতে হবে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মের জন্য তাঁকে জরিমানাও করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হওয়া ৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছিল, ইনু ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন। রায়ে রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায়ও প্রমাণিত হয়। ৬ নম্বর অভিযোগে ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ৭ নম্বর অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এসব অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায়ে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে এসব থেকে খালাস দেন। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জুলাই আন্দোলনে ভারতীয় গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া, গণভবনে ১৪-দলীয় জোটের সভায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্তে প্ররোচনা দেওয়া, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনা করা এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনসহ সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজার ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়া। এসব অভিযোগে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তিনি খালাস পান।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!