ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

অর্থনীতিতে ইতিবাচক হাওয়া: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩০ বিলিয়ন ডলার

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম

অর্থনীতিতে ইতিবাচক হাওয়া: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩০ বিলিয়ন ডলার

দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক খবর হলো, বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বা মজুত বেড়ে ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এই শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছায়। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৩১ হাজার ৪৫২ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রবাসী আয়েও (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বর্তমান বাজারে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার ধরে হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৮৭ কোটি টাকারও বেশি।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রেমিট্যান্স আসার এই ধারাবাহিকতা বেশ ইতিবাচক। এর মধ্যে কেবল ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর এই তিন দিনেই প্রবাসীরা প্রায় ১৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। গত বছরের ঠিক একই সময়ে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ বছরও সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এক ধরনের গতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে শুরু করে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অথচ গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

সে হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, যার প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মজবুত অবস্থান দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!