ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

আইএমএফের পূর্বাভাস: চলতি অর্থবছরে কমবে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ছাড়াবে ১০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

আইএমএফের পূর্বাভাস: চলতি অর্থবছরে কমবে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ছাড়াবে ১০ শতাংশ

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চলমান যৌথ বার্ষিক সভায় প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (অক্টোবর ২০২৬) প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হ্রাস এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই দ্বিমুখী চাপে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অবশ্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে।

সংস্থাটি তাদের পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণগুলোর ধারাবাহিকতায় জানিয়েছে, প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা।

এদিকে আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ (অক্টোবর ২০২৬) প্রতিবেদনেও দেশের অর্থনীতির একই ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন–ঘাটতি বাড়ছে।

‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও সার ভর্তুকিতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও এর একটি বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। অনেক সচ্ছল পরিবার সরকারি সুবিধা পেলেও হতদরিদ্র বহু পরিবার সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, কর-রাজস্ব বাড়ানো এবং ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

 

 

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!