ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা ৬ দিন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা ৬ দিন বন্ধ

নিরাপত্তা জোরদার ও কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের (প্রযুক্তিগত উন্নয়ন) দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সাধারণ গ্রাহকদের কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই একযোগে দেশের ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন অচলাবস্থা আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ টানা প্রায় ছয় দিন চলবে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে এটিএম বুথ, কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে লাখ লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা বন্ধ করার মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ব্যাংকিংয়ের স্বার্থে সিস্টেম মাইগ্রেশন হতেই পারে, কিন্তু এত বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি বা গ্রাহকদের জন্য কোনো গণবিজ্ঞপ্তিও দেয়নি।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়েছেন এবং ব্যাংকগুলোর এমন খামখেয়ালিপূর্ণ ও একক সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রোববার রাতে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়েকটি ব্যাংক দায়সারাভাবে গ্রাহকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠাতে শুরু করে। বার্তায় বলা হয়, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত কার্ড ও লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে। এ সময় কিউক্যাশের আওতাধীন এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) ও পিওএস টার্মিনাল পুরোপুরি অকার্যকর থাকবে।

তবে ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সাধারণ ডেবিট কার্ড লেনদেন, অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম-পিওএস বুথ, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ চালু রয়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, কারিগরি কাজ শেষ হওয়ামাত্রই সেবাগুলো পুরোদমে সচল করা হবে এবং এই অন্তর্বর্তী সময়ে গ্রাহকদের বিকল্প ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে সেবা সীমিত রাখাকে স্বাভাবিক বললেও, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তারা মনে করেন, এক সপ্তাহের জন্য একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের কার্ড সেবা বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের বিকল্প প্রস্তুতির সুযোগ দিতে অনেক আগেই বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা উচিত ছিল। আগাম নোটিশ ছাড়া এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
 

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!