ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

কলেরার টিকা পেয়েছেন ৮২.৬ শতাংশ, বাদ পড়েছেন সাড়ে ৮ লাখ মানুষ

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

কলেরার টিকা পেয়েছেন ৮২.৬ শতাংশ, বাদ পড়েছেন সাড়ে ৮ লাখ মানুষ

দেশে প্রথমবারের মতো পরিচালিত কলেরার প্রথম ধাপের মুখে খাওয়ার টিকা (ওসিভি) কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম ধাপে টিকা পেয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন। ফলে প্রায় ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। গত ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের কলেরার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৪টি এলাকায় এই টিকাদান চলে।

এই কর্মসূচিতে প্রথম ডোজে বাদ পড়া মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশই নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। সেখানে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও পেয়েছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৭ জন। অর্থাৎ তিন লাখ ষাট হাজারের বেশি মানুষ প্রথম ডোজ পাননি।

অন্যদিকে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া; সেখানে ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জে ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মুন্সীগঞ্জে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছেন। ঢাকার দুই অংশের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের হার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার প্রত্যাশা থাকলেও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণে তা শতভাগ সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো কর্মঘণ্টার সঙ্গে টিকাদানের সময়সূচির অমিল। লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কর্মজীবী হওয়ায় দিনের বেলায় টিকাদান চলায় অনেকেই টিকা নিতে পারেননি।

ঢাকায় সন্ধ্যায় টিকাদান পরিচালনা করে কিছুটা সফলতা এলেও নারায়ণগঞ্জে জনবসতি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং ভাসমান মানুষের স্থানান্তরের কারণে সেটি করা কঠিন ছিল। এছাড়া নিয়মিত কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুদের লক্ষ্য করা হলেও এবার এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করায় বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে কাভার করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

২০২২-২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআর,বি-এর এক যৌথ গবেষণায় দেশের ১৪৪টি এলাকাকে কলেরার অতি ঝুঁকিপূর্ণ ‍‍`হটস্পট‍‍` হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই হটস্পটগুলোর মানুষকে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টিকা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ জানান, এটি একটি প্রতিরোধমূলক টিকা এবং শিশুদের পাশাপাশি সব বয়সীদের অন্তর্ভুক্ত করায় এই অর্জনকে তারা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। বিনামূল্যে এই টিকা সরবরাহকারী বৈশ্বিক জোট ‍‍`গাভি‍‍`-এর প্রতিনিধি দলও টিকাদান কর্মসূচির এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

অর্থায়ন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!