দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে নিজেদের বাহিনীর পুরোপুরি প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগেই, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়েছেন সর্বশেষ মার্কিন সেনারা। ইরাক সরকার এ ঘটনাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথে ‘নতুন দিনের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করলেও, সাধারণ নাগরিকদের একাংশ সেনা প্রত্যাহার–পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আইএস-বিরোধী অভিযানের জন্য নতুন করে সেনা পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে এই চূড়ান্ত প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এটিকে সম্পূর্ণ বিদেশি সামরিক উপস্থিতিমুক্ত ও পূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুগ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবায়েরসহ অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক এখনো প্রস্তুত নয়। মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক বিদায়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলির মতে, এই প্রত্যাহারের ফলে কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে প্রতিবেশী ইরান। কারণ, মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইরাকে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী ও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। বছরের পর বছর ধরে মার্কিন বাহিনী ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে যে ভারসাম্য রক্ষা করে আসছিল, তা অপসারিত হওয়ায় চলমান সংঘাতে ইরান বাড়তি কৌশলগত সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :