ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
Daily Global News

রাড্ডা ক্লিনিক পরিদর্শনে ডা. শফিকুর রহমান, ৫০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

রাড্ডা ক্লিনিক পরিদর্শনে ডা. শফিকুর রহমান, ৫০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা

দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের শিকার রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে ৫০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই অনুদানের ঘোষণা দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার স্বার্থে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা করছি। আশা করছি এই অর্থ দিয়ে ভাঙা অবকাঠামোর সংস্কার ও কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতি কিনে মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা আবার শুরু করা যাবে।”

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির ছয় সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে বসে তারা দ্রুত পরিস্থিতি উত্তরণের উদ্যোগ নেবেন। এই সহায়তাকে ‘শুরু মাত্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সহযোগিতা করবে জামায়াতে ইসলামী।

এ সময় তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরেই তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবেন।

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার নেপথ্যে ক্ষমতাসীনদের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। সুনির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “সরকারি দলের সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া দুর্বৃত্তদের পক্ষে এত বড় অপকর্ম করার সাহস পাওয়া সম্ভব নয়।”

তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন যে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, এমনকি তাঁর নিজ দলের লোকও যদি জড়িত থাকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে আইনের আওতায় আনা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশজুড়ে চলমান অন্যান্য নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। 

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একজন জুলাই যোদ্ধার স্টুডিওতে হামলা করে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। অথচ এখন ইনিয়ে-বিনিয়ে বলা হচ্ছে, সেখানে নাকি চাঁদা চাইতে যাওয়া হয়নি! যদি জমিজমা সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থেকেও থাকে, রাত ১টা বা ২টার সময় গিয়ে এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর বিধান কোন আইনে আছে?”

পাশাপাশি, মোহাম্মদপুরে দিনে-দুপুরে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালানো এবং সেই দুর্বৃত্তদের এখনো আইনের আওতায় না আনতে পারার চরম সমালোচনা করেন তিনি।

সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত অপদস্থ করা হচ্ছে এমন সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!