ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

গাজার ২০ হাসপাতালে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করছে ডব্লিউএইচও, চরম বিপর্যয়ের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

গাজার ২০ হাসপাতালে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করছে ডব্লিউএইচও, চরম বিপর্যয়ের শঙ্কা

অর্থসংকটের কারণ দেখিয়ে ফিলিস্তিনের গাজার ২০টির বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করতে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মুনির আল-বুরশ জানান, বর্তমানে যে সামান্য পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই কোনোমতে গাজার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয়েছে। নতুন করে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে সেখানকার হাসপাতালগুলো।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের অর্থ কেবল জেনারেটর বন্ধ হওয়া নয়; এর ফলে অপারেশন থিয়েটার এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে। অচল হয়ে যাবে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র (ভেন্টিলেটর) ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক, ডায়ালাইসিসের রোগী, আহত ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগে আক্রান্তরা। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও (কোল্ড চেইন) কাজ করবে না।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে আল-বুরশ বলেন, এটি কেবল সাময়িক কোনো জ্বালানি সংকট নয়। বরং গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়ে পুরোপুরি ধ্বংস করার যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া চলছে, এটি তারই অংশ। এর ফলে চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হবে।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিজিএন

banner
Link copied!