সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) সুবিধা পাবেন দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সব অনিশ্চয়তা কেটে গেল।
এর আগে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদিত হয়। কিন্তু বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা এই পে-স্কেলের আওতায় আসবেন কি না, সে বিষয়ে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর এই বক্তব্যের পরই শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
তবে আজ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার নিশ্চিত বার্তার পর সেই শঙ্কা দূর হলো। বর্তমানে দেশে ৬ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত।
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। এতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কিছুটা কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে যে গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সেই গ্রেড অনুযায়ীই বর্ধিত বেতন পাবেন। এতে তাঁদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। মূল বেতন বাড়ার সঙ্গে আনুপাতিক হারে বাড়বে বাড়িভাড়াও, যা বর্তমানে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ।
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেলের সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। এটি ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ২৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
অন্যদিকে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৪০, ৩০ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তবে সব গ্রেডের আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের জন্যও স্ল্যাবভিত্তিক ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নিট পেনশন বাড়ানোর সুবিধা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালু এবং সব গ্রেডের কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় শিক্ষক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির একটি বড় অংশ পূরণের পথ তৈরি হলো। তবে এটি ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে এখন বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।


আপনার মতামত লিখুন :