ঢাকা রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News
প্রাথমিক শিক্ষায় নবজাগরণের ইঙ্গিত

৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও গুণগত পরিবর্তনের এক সুদূরপ্রসারী রূপরেখা

ওমর ফারুক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও গুণগত পরিবর্তনের এক সুদূরপ্রসারী রূপরেখা

একটি জাতির মেরুদণ্ড যদি শিক্ষা হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডের মূল ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন হলো প্রাথমিক শিক্ষা। একটি শিশু যখন প্রথম তার বাড়ির চেনা গণ্ডি পেরিয়ে বিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রাখে, তখন শুধু তার অক্ষরজ্ঞানই শুরু হয় না; বরং শুরু হয় তার মানুষ হওয়ার, সমাজকে বোঝার এবং রাষ্ট্রকে ধারণ করার এক দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। তাই প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা যতটা উন্নত ও সংবেদনশীল হবে, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিক ততটাই মানবিক, দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন হয়ে উঠবে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নানা ধরনের কাঠামোগত, আইনি ও পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি এই খাতে এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক এক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যেসব যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। মানুষের বিবেক, সমাজের প্রয়োজন এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই উদ্যোগগুলো কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য একজন যোগ্য নেতার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাণভোমরা হলেন সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না, বরং পুরো বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলারক্ষা, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে এক অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে দেশের ৩২ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। নেতৃত্বহীন এই বিদ্যালয়গুলো অনেকটা নৌকার মাঝির মতো দিকভ্রান্ত হয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল।

অবশেষে এই দীর্ঘ স্থবিরতার অবসান হতে চলেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সব আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। ইতিমধ্যে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে এবং খুব শিগগিরই এই ৩২ হাজার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হতে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া নয়, বরং হাজার হাজার বিদ্যালয়ের হৃত গৌরব ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। যোগ্য নেতৃত্ব পেলে বিদ্যালয়গুলো যেমন তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে, তেমনি শিক্ষার তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও অনেক সহজ হবে।

শিক্ষক হলো মানুষ গড়ার কারিগর। কারিগর যদি নিজে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল বা সামাজিকভাবে অবহেলিত থাকেন, তবে তাঁর পক্ষে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতাকে অনুধাবন করে বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক নীতিমালা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে।

নতুন এই নীতিমালায় শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন-স্কেল নির্ধারণের পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধার নানা দিক অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, এই নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বরং শিক্ষক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে এটি প্রণীত হচ্ছে। যখন একটি নীতিমালা প্রণয়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন সেই নীতিমালা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হয়।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ একটি শিশুর মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলে। জরাজীর্ণ ভবন, ভাঙা বেঞ্চ বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কখনোই একটি শিশুর জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে না। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কারিকুলাম ও প্রযুক্তির পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব করা, আধুনিক ও আরামদায়ক আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম নির্মাণ এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠের মানোন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি শিশু যখন দেখবে তার বিদ্যালয়ের পরিবেশ তার বাড়ির চেয়েও সুন্দর ও আনন্দদায়ক, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্যে বিদ্যালয়মুখী হওয়ার একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রবণতা তৈরি হবে।

আমাদের সমাজে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য দেয়াল রয়েছে। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো অনেক সময় নিজেদের মতো করে পরিচালিত হয়, যেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা কম থাকে। এই বৈষম্য দূর করতে সরকার এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি সুনির্দিষ্ট মনিটরিং বা নজরদারির আওতায় আনা হবে। দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি ‘ন্যূনতম মানদণ্ড’ বা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। কোনো বিদ্যালয় যদি সেই মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের নিবন্ধন সরাসরি বাতিল করা হবে। অর্থাৎ, নিবন্ধন ছাড়া ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় আর গড়ে তোলা বা পরিচালনা করা যাবে না।

একই সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের যে অনৈতিক বাণিজ্য চলে আসছিল, তার বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। সেবার বিনিময়ে যৌক্তিক বেতন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, অন্যায়ভাবে অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের একটি বড় ত্রুটি হলো এটি অতিরিক্ত মাত্রায় পাঠ্যপুস্তক ও মুখস্থনির্ভর। গাদা গাদা বইয়ের চাপে শিশুদের শৈশব হারিয়ে যাচ্ছিল। এই প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে ‘অ্যাকটিভ লার্নিং’ বা সক্রিয় শিখন পদ্ধতি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

আগামী প্রজন্মকে শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া ‘শিক্ষিত’ রোবট বানালে চলবে না, বরং তাদের ‘সিভিক ও ভ্যালু-ভিত্তিক’ অর্থাৎ নাগরিক দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধসম্পন্ন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রথাগত পড়াশোনার পাশাপাশি গান, নৃত্য, বক্তৃতা, বিতর্ক এবং কেরাতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম পাঠ্যক্রমের অংশ হবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে শুধু প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী শিক্ষকদের একাধিক বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন পাঠদানের জন্য একটি বিশেষ অস্থায়ী শিক্ষক কাঠামোর নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে তৃণমূলের শিশুরাও দেশের সেরা ও দক্ষ শিক্ষকদের কাছ থেকে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল দীক্ষা লাভ করতে পারবে।

বিশ্বায়নের এই যুগে টিকে থাকতে হলে ভাষাগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। মাতৃভাষা বাংলা এবং আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির পাশাপাশি প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে একটি ‘তৃতীয় ভাষা’ চালুর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে এর আগেই শিশুদের ‘ফাউন্ডেশন লার্নিং’ বা বুনিয়াদি শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। একটি শিশুর যদি প্রাথমিক ভিত্তিই মজবুত না হয়, তবে তার ওপর নতুন ভাষার বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটা বুমেরাং হতে পারে। তাই আগে ভিত্তি মজবুত করে তারপর দক্ষতা বাড়ানোর এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে অত্যন্ত প্রজ্ঞার সঙ্গে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। জন্মহার কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই ভবিষ্যতে সব এলাকায় সমানসংখ্যক শিশুর চাহিদা থাকবে না। তাই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি না কম সেটি নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। মূল লক্ষ্য হতে হবে, যে শিশুটি বিদ্যালয়ে আসছে সে সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে কি না।

কোনো অভিভাবককে জোর করে সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তান ভর্তি করাতে বাধ্য করা হবে না। বরং সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, অবকাঠামো ও পরিবেশকে এমন একটি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে অভিভাবকেরা স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের সন্তানদের সেখানে ভর্তি করাতে ছুটে আসেন।

দারিদ্র্য বা অভাবের তাড়নায় যেন একটি শিশুও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল ফিডিং (দুপুরের খাবার), বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা এবং স্কুলব্যাগ দেওয়ার মতো যুগান্তকারী সব উদ্যোগ গ্রহণ ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পেটে ক্ষুধা থাকলে মাথায় বিদ্যা ঢোকে না এই অমোঘ সত্যকে উপলব্ধি করেই শিশুদের পুষ্টি ও প্রেষণা নিশ্চিত করার এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এত সব বিশাল পরিকল্পনা কখনোই শুধু এসি রুমে বসে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা। সে কারণেই দেশের আটটি বিভাগে ধারাবাহিকভাবে সরাসরি কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে এই কর্মশালা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর ও ঢাকাতেও এটি অনুষ্ঠিত হবে।

এসব কর্মশালার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের যেমন নতুন নীতিগত উদ্যোগ ও সরকারের ভিশন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হচ্ছে, তেমনি তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অভাব-অভিযোগের কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনা হচ্ছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি পরবর্তী ১৮০ দিন এবং আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পুরো ‘প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার’ এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত।

প্রাথমিক শিক্ষায় যে সংস্কারের রূপরেখা আজ আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে, তা কেবল কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের ফিরিস্তি নয়; এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ, শিক্ষাঙ্গনে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, পাঠ্যবইয়ের বাইরের সৃজনশীল জগতের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করানো এবং সর্বোপরি শিক্ষকদের সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রদান এসব কিছুই একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত।

পরিকল্পনাগুলো যত চমৎকারই হোক না কেন, এর আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সঠিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়নের ওপর। দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব হলো এই মহতী উদ্যোগগুলোর পাশে দাঁড়ানো। কারণ আজকের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার হাল ধরবে। তাদের শেকড় যদি মজবুত ও নীতিবান হয়, তবে আগামীকালের বাংলাদেশ যে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বপ্ন আর বাস্তবতার এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা একটি আলোকিত আগামীর প্রত্যাশাতেই বুক বাঁধতে পারি।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!