সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ রিয়াদের আকাশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার কথা জানালেও, কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের একটি জ্বালানি স্থাপনা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
হামলার কারণে ওই বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং গত জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। এছাড়া বিশ, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরেও বেশ কয়েকটি হামলা ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদির প্রায় ৩০০টি বিমান হামলা এবং ইয়েমেনের ওপর চলমান অবরোধের কড়া জবাব দিতেই আরামকোর স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।
আকাশপথের পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরেও লড়াই তীব্র হয়েছে। হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতে অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, লড়াইয়ের কারণে দেশটিতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অন্যদিকে, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইয়েমেনের মোকা বন্দর এবং পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুথিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায়, সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য এখন লোহিত সাগরের এই রুটটির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ পরিস্থিতিতে জেপি মরগান সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত যেদিকে মোড় নিচ্ছে তাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ভবিষ্যৎ অনুমান করা এখন প্রায় অসম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :