ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই সময়ের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মূলত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির আকার আরও বড় হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই আসবে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো থেকে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নামমাত্র জিডিপি ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ এই দুই দেশ ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে, যার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে চীনের।

তবে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে জার্মানির সঙ্গে ভারতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ২০৩০ সালে জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি হতে পারে ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার, আর ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, দুই দেশের ব্যবধান থাকবে মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ভারত যেকোনো সময় জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী হিসাব করলে ভারত ইতিমধ্যেই জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় অর্থনীতি।

২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি। চীন ও ভারতের পর এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে জাপান (জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলার)। এরপর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া (২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন) ও ইন্দোনেশিয়া (২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন)। একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি থাকা জাপানের প্রবৃদ্ধি গত কয়েক দশক ধরে ধীর হয়ে পড়েছে। ২০১০ সালে চীন এবং ২০২৪ সালে জার্মানি জাপানকে পেছনে ফেলে দেয়।

২০৩০ সালে ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার হতে পারে ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি ২৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে জার্মানি শীর্ষে এবং এরপর থাকবে ফ্রান্স (৪ ট্রিলিয়ন) ও ইতালি (৩ ট্রিলিয়ন)।

ইইউর বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে থাকবে যুক্তরাজ্য, যাদের জিডিপি হতে পারে ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে থাকবে রাশিয়া। তবে আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাশিয়া অন্যতম, যাদের অর্থনীতি ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সংকুচিত বা ছোট হয়ে আসতে পারে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!