চট্টগ্রাম মহানগরের বর্তমান আয়তন ১৫৫ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়াচ্ছে। নতুন করে এই মহানগরের আওতায় আসছে আশপাশের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা। অর্থাৎ, বর্তমানের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড় হতে যাচ্ছে বন্দরনগরী।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) আগামী ২৫ বছরের (২০২৫-২০৫০) ভবিষ্যৎ নগরায়ণ ও জনসংখ্যার চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই নতুন মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের বদলে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলাই এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। খসড়াটির ওপর নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণের জন্য গত ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে। অনলাইনেও যে কেউ এ বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।
খসড়া পরিকল্পনায় যা আছে: নতুন এই মহাপরিকল্পনায় শুধু রাস্তা বা ভবন নির্মাণের বিষয়টিই বিবেচনা করা হয়নি; বরং ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, আবাসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে একই কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এতে ১৫টি খাতে ৭৭টি নীতিগত প্রস্তাব এবং ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রয়েছে।
নগরকেন্দ্রিক চাপ কমাতে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউনস’ ধারণা সামনে রেখে কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়কে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আনোয়ারা, বাকলিয়া ও আগ্রাবাদ এলাকার জন্য থাকছে পৃথক পরিকল্পনা। মূল নগরের ওপর চাপ কমাতে সীতাকুণ্ড ও হাটহাজারীতে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধার ও প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার পুকুর ও জলাধার চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকার প্রায় ১৮৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ঢাল ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেখানে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে খসড়ায়।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন এই মাস্টারপ্ল্যানে চট্টগ্রামের প্রথম ‘সয়েল লিকুইফ্যাকশন রিস্ক ম্যাপ’ বা মাটির তরলীকরণ ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। পাহাড় বাদে পুরো এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ এ ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সিডিএ জানিয়েছে। এছাড়া নগরীতে বড় আকারের উন্মুক্ত স্থান, জাতীয় উদ্যানের আদলে বড় পার্ক, একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থান ও ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন ও ব্যয়: সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এরই মধ্যে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৫ বছরের জন্য প্রণীত ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, এসব অন্তর্ভুক্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সিডিএ থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।


আপনার মতামত লিখুন :