ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

নিমেষেই ‘উধাও’ মানুষ! ইসরায়েলকে ৬০ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

নিমেষেই ‘উধাও’ মানুষ! ইসরায়েলকে ৬০ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন করদাতাদের অর্থে ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও ভারী ৬০ হাজার বোমা বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের এই চুক্তির আওতায় একেকটি ২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯০৭ কেজি ওজনের এই মারণাস্ত্রগুলো সরবরাহ করা হবে। গাজায় তিন বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে সহিংসতা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ বোমা সরবরাহের খবর সামনে এল।

সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তিন ধরনের বোমা সরবরাহ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ এবং বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা। এগুলো মাটির নিচে বা কংক্রিটের অত্যন্ত শক্ত কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। এই ৬০ হাজার বোমার মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বার্লিন শহরের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের প্রায় সমান।

গবেষণা অনুযায়ী, ২ হাজার পাউন্ডের একটি বোমা বিস্ফোরণের স্থান থেকে ৩৫ মিটার বা ১১৫ ফুটের ভেতরের সবকিছু সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। এই বোমাগুলোর বিস্ফোরণে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি হয়। আল-জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজায় অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনি এ ধরনের বোমার আঘাতে আক্ষরিক অর্থেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন; তাদের মরদেহের কোনো অবশিষ্টাংশও পাওয়া যায়নি।

বেসামরিক প্রাণহানির কারণে পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসন ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার চালান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে সেই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি তুলে নেন। শুধু তা-ই নয়, কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই তিনি সম্প্রতি ইসরায়েলের কাছে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। অথচ পেন্টাগনের নিজস্ব প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেন ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই সামরিক ভান্ডারে গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

ইসরায়েলকে নতুন করে এত বিপুল সংখ্যক মারণাস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন এক্সে লিখেছেন, গাজায় নেতানিয়াহু সরকার যা করেছে, তা মূলত গণহত্যা। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এই অস্ত্র বিক্রি আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের টাকায় কেনা বোমা একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর (নেতানিয়াহু) হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনও নিরীহ মানুষ হত্যায় মার্কিন করের টাকা ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!