ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) সামরিক ব্যয় এরই মধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নির্দলীয় সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সদ্য প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে প্রতি মাসে অন্তত ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি হারে খরচ বাড়তে থাকবে। মূলত যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় মজুত করতেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
যুদ্ধের এই ব্যাপক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সিবিওর প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেশি হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দামে মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ব্রেন্ডন বয়লের অনুরোধে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেওয়া হিসাবের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের বেশ মিল রয়েছে।
তবে সিবিওর এই হিসাবে যুদ্ধে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের ক্ষতিপূরণ এবং সাবেক সেনাদের ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর আগে গত জুনে হোয়াইট হাউস যুদ্ধের জন্য ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি সামরিক ব্যয়সহ মোট ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ টানা সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং এর দ্রুত সমাধানের কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ ও এর কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি এই লড়াইয়ের কারণে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক মজুতেই ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের পৃথক আরেকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :