ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কোমি প্রজাতন্ত্রের ইয়েমভা শহরের একটি কৃত্রিম হ্রদ স্থানীয়দের কাছে গরমের দিনে সাঁতার কাটার মনোরম স্থান হলেও এর অতীত ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। মূলত এটি স্তালিন আমলের সোভিয়েত গুলাগ বা জোরপূর্বক শ্রমশিবিরে নিহত বন্দীদের একটি বিশাল গণকবর।

আশির দশকে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান খননকাজ চালানোর সময় মানুষের হাড়গোড় ও কফিনের টুকরো উঠে এলেও সেখানেই ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে কৃত্রিম সৈকত ও হ্রদ তৈরি করা হয়। এরপর থেকে দশকের পর দশক ধরে স্থানীয়রা এই হ্রদে সাঁতার কাটছেন। এখনও নিয়মিত হ্রদের তীরে মানুষের হাড়গোড় ভেসে ওঠে। কিন্তু নিহতদের স্মরণে সেখানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

প্রায় পাঁচ বছর আগে ওই এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ডের পর একদল গবেষক সেখানে গিয়ে খুব সহজেই মানুষের পাঁজর ও অন্যান্য হাড়গোড় খুঁজে পান। গবেষক ও ইতিহাসবিদদের দাবি, ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে গুলাগ বন্দীদের অনানুষ্ঠানিক গণকবর হিসেবে স্থানটি ব্যবহৃত হতো। এসব দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করা বা অন্তত একটি ক্রুশ স্থাপনের দাবি উঠলেও স্থানীয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

উল্টো বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাশিয়ায় বর্তমানে স্তালিন আমলের দমন-পীড়নের ইতিহাস একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যারা এসব গণকবর শনাক্ত বা ইতিহাস অনুসন্ধানের চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ‘উগ্রপন্থী’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ বা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

মস্কোর গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ সোভিয়েত শ্রমশিবির ও কারাগারের অমানবিক জীবনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক ও অন্যান্য কারণে বন্দী এসব মানুষের মধ্যে অন্তত ২০ লাখ রাষ্ট্রীয় হেফাজতেই মারা যান।

কোমি অঞ্চলের ইয়েমভা শহরের উৎপত্তিও ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এমনই একটি শ্রমশিবির থেকে। এত বড় অমানবিক ইতিহাসের প্রমাণ থাকার পরও ইয়েমভার ওই হ্রদে মানুষের হাড়গোড় থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আদালত ও প্রশাসন।

আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি শুধু একটি ‘সাঁতার নিষিদ্ধ’ সাইনবোর্ড টানিয়েই দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ। তবে অবাক করা বিষয় হলো, স্থানীয়রা মানুষের হাড়গোড়ের মধ্যেই এখনো নির্বিঘ্নে সাঁতার কাটা অব্যাহত রেখেছেন। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!