ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

মক্কায় ড্রোন হামলা ঘিরে সৌদির কড়া হুঁশিয়ারি, হুতিদের অস্বীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

মক্কায় ড্রোন হামলা ঘিরে সৌদির কড়া হুঁশিয়ারি, হুতিদের অস্বীকার

পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই ঘটনার পর চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে রিয়াদ।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের আগেই মক্কার দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। পবিত্র দুই মসজিদ, তীর্থযাত্রী এবং পুরো দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে তারা পিছপা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০১৭ সালেও হুতিরা মক্কা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল বলে জোটের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র নগরীতে এই হামলার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক জোট। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মক্কার পবিত্রতা ও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসি, আরব লিগ, জর্ডান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতও এই ঘটনাকে অত্যন্ত গর্হিত কাজ বলে উল্লেখ করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছে।

তবে মক্কায় হামলার এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির পলিটব্যুরো সদস্য হাজেম আল-আসাদ জানিয়েছেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

উল্টো হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তারা স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইয়েমেনের মারিব এলাকায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছেন। একই সঙ্গে সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিতেও সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, হুতিরা এখন আর কেবল অন্য দেশের ছায়াশক্তি হিসেবে কাজ করছে না; বরং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের কৌশলগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই তীব্র উত্তেজনার মাঝেই ওমানের রাজধানী মাসকাটে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, এই বৈঠকে হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা না চালানোর এবং ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ইসরায়েলি ও সৌদি মালিকানাধীন জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।

ঠিক এমন একটি সময়ে এই গোপন বৈঠকের খবর সামনে এলো, যখন হুতিরা ঝটিকা অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের মাইয়ুন (পেরিম) দ্বীপ ও কৌশলগত মোখা শহর দখল করে নিয়েছে। এর ফলে বাব আল-মানদেব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হওয়ায় ওই অঞ্চলে সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। তায়েজ ও মারিব প্রদেশে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে এবং হুতিরা কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যমতে, সংঘাতের নতুন এই ডামাডোলে ইয়েমেনের ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রাণ বাঁচাতে অন্তত দুই হাজার মানুষ লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!