ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

জ্বালানি আমদানিতে আসছে বেসরকারি খাত, ডিসেম্বর পর্যন্ত তেলের সংকট নেই

বাসস

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:০২ এএম

জ্বালানি আমদানিতে আসছে বেসরকারি খাত, ডিসেম্বর পর্যন্ত তেলের সংকট নেই

বৈশ্বিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মজুত সম্পূর্ণ নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সার্সন রোডে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। নতুন কর্মস্থলে যোগদান উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সংকট মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের বিকল্প উপায় কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিপুল অঙ্কের ভর্তুকির বিষয়টি উল্লেখ করে ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। এর ফলে সরকারকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারের আমদানি ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়লেও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বেসরকারি খাতেও পরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ দিয়ে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, হরমুজ প্রণালি, বাব-এল-মানদেব এবং ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মতো আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটগুলোর ওপর বাংলাদেশের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তা সত্ত্বেও বিপিসি নিজস্ব সক্ষমতা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তত ডিসেম্বর পর্যন্ত মজুতের ক্ষেত্রে একটি নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে।

স্বল্পমেয়াদি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ চলছে। আগামী ডিসেম্বরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে সেখানেও জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

দেশে এলপিজি আমদানির অগ্রগতি সম্পর্কে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দুটি পর্যায়ে এই কার্যক্রম চলছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাতারবাড়িতে ফ্লোটিং স্টোরেজ ইউনিটের (এফএসইউ) মাধ্যমে ভিএলজিসি বা বড় আকারের জাহাজে করে এলপিজি এনে অপারেটরদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হবে, যা চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারির দিকে শুরু হতে পারে।

এ বিষয়ে বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি মাসের শেষ নাগাদ এলপিজির একটি চালান দেশে এসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়। এ সময় বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!