ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ভয়াবহ চিত্র ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ভয়াবহ চিত্র ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। বিবিসির মার্কিন অংশীদার সংবাদমাধ্যম সিবিএসের হাতে আসা বেশ কিছু ছবিতে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন সামরিক সদস্যের দেওয়া এসব ছবিতে দুই টুকরো হয়ে যাওয়া রাডার বিমান, চূর্ণবিচূর্ণ ট্রেইলার এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা গেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সামরিক সদস্য সিবিএসকে জানান, ঘাঁটিগুলোতে হওয়া এই বিশাল ক্ষতির প্রকৃত তথ্য মার্কিন জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে, যা অনেকটা ‘চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে মুখে ঘুষি খাওয়ার’ সমতুল্য।

প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি (অ্যাওয়াকস) রাডার বিমানকে দুই টুকরো অবস্থায় দেখা যায়, যার লেজের অংশ ধাতব স্তূপে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিংয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেইলার ও ছিন্নভিন্ন তাঁবু এবং ক্যাম্প আরিফজানে একটি চারতলা ভবনের ব্যাপক ক্ষতির চিত্রও উঠে এসেছে।

এসব ছবি প্রকাশ্যে আসার ঠিক এক দিন আগেই পেন্টাগনের তদারকি সংস্থার একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, সংঘাত চলাকালে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ইরানের হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পেন্টাগনের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শুধু সামরিক সরঞ্জামেরই ক্ষতি হয়েছে ৩৭০ কোটি ডলার। এছাড়া গত ২৯ জুন পর্যন্ত এই যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে থাকা পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সংঘাত অবসানের জন্য মার্কিন প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তীব্র হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

কয়েকজন রিপাবলিকানের সমর্থন নিয়ে পাস হওয়া এই প্রস্তাবে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা খর্ব করার কথা বলা হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!