নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর একাধিক চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এবার চিরচেনা প্রতিপক্ষ সংবাদমাধ্যমের ওপর চড়াও হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের জেরে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশ একযোগে নিষিদ্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
নাগরিক অধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং নিজ দলের একাংশের কাছে ধাক্কা খেয়ে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ট্রাম্প এখন জনগণের মনোযোগ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মিডিয়াকে নিশানা করেছেন।
সম্প্রতি কেনেডি সেন্টারের সামনে নিজের নাম বসানোর চেষ্টা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে দিয়ে সুদের হার কমানোর অযৌক্তিক চাপ এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার মতো ট্রাম্পের একাধিক উদ্যোগ আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আটকে দেয়। এর পাশাপাশি চড়া মূল্যস্ফীতি, পেট্রলের বাড়তি দাম এবং ইরানের বিরুদ্ধে অজনপ্রিয় যুদ্ধনীতির কারণে ক্রমাগত জনসমর্থন হারাচ্ছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের সাবেক উপপ্রেস সচিব সারাহ ম্যাথুস জানান, ট্রাম্প মূলত ভয় দেখিয়ে কাজ হাসিল করতে অভ্যস্ত; কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাধার মুখে পড়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এমন আক্রমণাত্মক আচরণের পথ বেছে নিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো রীতিমতো নজিরবিহীন। তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের অর্থায়ন বন্ধ এবং সামরিক বাহিনীর নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় পেন্টাগনের স্বাধীন সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর সম্পাদকদেরও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে ‘ইতিবাচক’ সংবাদ প্রকাশ করলে তবেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। প্রেসিডেন্টের এমন শর্তকে সরাসরি অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এনএএসিপি সভাপতি ডেরিক জনসনের মতে, অর্থনীতি বা নিত্যপণ্যের দামের মতো বিষয়গুলো ট্রাম্পের পক্ষে না থাকায় তিনি মূলত জনগণের কাছ থেকে সত্য আড়াল করতেই এই দমনপীড়ন চালাচ্ছেন।
নির্বাচনের মাত্র ৪৫ দিন বাকি থাকতে ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে খোদ রিপাবলিকান শিবিরেই চরম উদ্বেগ বাড়ছে। দলটির অনেক নেতাই মনে করেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে অযথা বিবাদে না জড়িয়ে ট্রাম্পের উচিত ভোটারদের অর্থনৈতিক দুর্দশা দূর করার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক যোগাযোগ পরিচালক ডগলাস হাই সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের এসব বিতর্কিত কৌশল নির্বাচনের আগে দলের কোনো উপকারে তো আসছেই না, উল্টো দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো জরুরি ইস্যুগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :