ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

ইউরোপযাত্রায় মৃত্যুফাঁদ: ৯ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

ইউরোপযাত্রায় মৃত্যুফাঁদ: ৯ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী

উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে সমুদ্রপথে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। চলতি বছরের শুরু থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন রুটে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ইউরোপে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও, বিপজ্জনক এসব সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির সংখ্যা উল্টো বেড়েছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর একই সময়ে (জানুয়ারি থেকে মধ্য-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সমুদ্রপথে মৃত বা নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এই মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে ২৯৩ জন।

সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “নিরাপদে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ এখনও আশঙ্কাজনক হারে মারা যাচ্ছে ও নিখোঁজ হচ্ছে।” তাঁর মতে, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে সীমান্ত কড়াকড়ির কারণে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এখন আরও বেশি গহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গ্রিসসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ ‘পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়’ রুটে। গত বছর এই রুটে যেখানে ২৮৪ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল, চলতি বছর তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭ জনে।

আইওএম আরও জানিয়েছে, তাদের এই পরিসংখ্যানে কেবল যাচাইকৃত নৌদুর্ঘটনাগুলোই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাঝদরিয়ায় গাদাগাদি করা অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা একেবারেই নথিভুক্ত হয় না বিধায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে আরও অনেক বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে, ইউরোপে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান ট্রানজিট লিবিয়া উপকূলেও চলছে ব্যাপক কড়াকড়ি। লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে মাঝপথ থেকে আটক করে পুনরায় লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মূলত মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে চরম অনিরাপদ নৌযানে এসব যাত্রা করার কারণেই অহরহ ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা।

সার্বিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আগমন বেশ কমেছে। আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছেছেন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ এক বছরে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানো মানুষের হার প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে।

তবে আইওএম সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগমন কমলেও মৃত্যু বাড়ার এই প্রবণতা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সংস্থাটির মতে, কেবল কড়াকড়ি আরোপ করে ইউরোপে আগমন কমানোর দিকে নজর দিলে এই মানবিক সংকটের সমাধান হবে না।

এর পরিবর্তে সমুদ্রপথে জীবন রক্ষা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অভিবাসনের পেছনের ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে নিরাপদ, নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরির ওপরই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বৈধ সুযোগ বাড়ানো গেলেই কেবল নৌযাত্রায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে।

 

 

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!