ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

ট্রাম্প-তারেক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ কতটুকু? যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১১:২০ এএম

ট্রাম্প-তারেক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ কতটুকু? যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত এই সফর নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছে তাঁর সফরকারী প্রতিনিধিদল। স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টায় ম্যানহাটনের ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন দিক, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এবং প্রতিনিধিদলের আকার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চার দিনের এই ব্যস্ত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বা দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি মূলত একটি বহুপক্ষীয় (মাল্টিল্যাটারাল) সফর, যার প্রধান উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেটি একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়, যা ভবিষ্যতে আলাদা কোনো সফরের মাধ্যমে দুই পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা এক চিঠিতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্তে ট্রাম্প আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, বোয়িং কাউকে হতাশ করবে না এবং অদূর ভবিষ্যতেই তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছেন।

সফরের মূল আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর আগামী দিনে ‘নতুন বাংলাদেশ’ কী ধরনের পলিসি বা ভিশন নিয়ে এগোচ্ছে, তা তুলে ধরাই হবে এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। বহুপক্ষীয় এসব আলোচনায় বিশ্বনেতাদের কাছে বাংলাদেশের আগামী দিনের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক রূপরেখাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন এই সফরে প্রতিনিধিদলের আকার নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল নিরসন করেন। তিনি জানান, অতীতের বড় বড় বহর নিয়ে বিদেশ সফরের সনাতনী ধারা ভেঙে এবার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরে মাত্র ৩৩ জনের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে, যাদের সঙ্গে রয়েছেন কেবল অত্যাবশ্যকীয় গণমাধ্যমকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী এবং ব্যক্তিগত কয়েকজন স্টাফ।

এই ক্ষুদ্র বহর নিয়ে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক এড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যেকোনো আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, গণমানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!