ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

তেলের অজুহাতে ট্রাক ভাড়ায় নৈরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

তেলের অজুহাতে ট্রাক ভাড়ায় নৈরাজ্য

রোববার রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণার পর থেকেই দেশের পণ্য পরিবহন খাতে চরম অস্থিরতা ও নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। সরকার বা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পণ্য পরিবহনের নতুন কোনো ভাড়ার হার নির্ধারিত না থাকায় ট্রাক, লরি, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, জ্বালানি বাবদ যে পরিমাণ খরচ বেড়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অঞ্চলভেদে এই ভাড়া ২ হাজার থেকে শুরু করে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা আগের ভাড়ার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। পরিবহন খাতের এই আকস্মিক ভাড়াবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন কাঁচামাল ও নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা।

যশোর থেকে ঢাকায় সবজি পরিবহনকারী আড়তদার আমির হোসেন জানান, মাত্র দুদিন আগেও যে ট্রাকে পণ্য আনতে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগত, মঙ্গলবার একই দূরত্বের জন্য তাঁকে ৩১ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। ২২ হাজার টাকার হিসাবে এই রুটে ভাড়া এক ধাক্কায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

তবে অতিরিক্ত এই পরিবহন ব্যয় তাৎক্ষণিকভাবে পণ্যের ওপর চাপালে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের আপাতত কম লাভে পণ্য ছাড়তে হচ্ছে। ধীরে ধীরে এই খরচের সমন্বয় করা হবে বলে জানান তাঁরা।

দেশের অন্যান্য রুটেও ভাড়ার এই চিত্র প্রায় অভিন্ন। টাঙ্গাইল থেকে যাত্রাবাড়ীতে কার্টন নিয়ে আসা ট্রাকচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে মালিক আগেই ১০ হাজার টাকার ভাড়া ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ঢাকা-বগুড়া রুটের চালক আসলাম হকের মতে, এই পথে আগে ২০-২২ হাজার টাকা লাগলেও এখন ৩০ হাজার টাকার নিচে ট্রিপ মারা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে ভোলা থেকে ঢাকায় মালামাল নিয়ে আসা ট্রাকচালক আলাল মিয়া জানান, তাঁর ট্রিপের ভাড়া ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অসামঞ্জস্য দেখা গেছে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক রুট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ট্রাকচালকদের দেওয়া তথ্যমতে, এই রুটে একবার যাতায়াতে ১০০-১১০ লিটার ডিজেল পোড়ে। সেই হিসাবে লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় জ্বালানি খরচ সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা বাড়ার কথা।

কিন্তু বাস্তবে এই পথে ট্রাকভাড়া ৩০-৩১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডালজাতীয় পণ্য ঢাকায় আনা পাইকারি ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, "তেলের দাম যা বেড়েছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বেড়েছে ট্রাকভাড়া।"

ভাড়ার এই নৈরাজ্য ও গ্রাহকদের সঙ্গে সম্ভাব্য বচসা এড়াতে অনেক চালক ও মালিক আপাতত গাড়ি চালানোই বন্ধ রেখেছেন।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে পণ্য পরিবহনকারী পিকআপ চালক লিখন হোসেন জানান, নতুন ভাড়া নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে চেঁচামেচি এড়াতে বাজার পরিস্থিতি বুঝে ও নতুন ভাড়ার হার থিতু হওয়ার পরই তিনি গাড়ি রাস্তায় নামাবেন।

তেলের নতুন দর (ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, অকটেন ১৬৫ এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা) অনুযায়ী পণ্য পরিবহনের একটি সুনির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা দ্রুত প্রণয়ন না করা হলে এর চূড়ান্ত মাশুল সাধারণ ভোক্তাদেরই গুনতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!