রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তাঁর আবাসস্থল ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তা বারহাম সালেহ এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ। এসব বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা চাপিয়ে রাখার মধ্যে নেই; বরং রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই এর প্রকৃত সমাধান নিহিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল মানবিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়, প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, বারহাম সালেহ এবং জুলি বিশপ—তিনজনই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে তাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বহুমুখী চাপ তৈরি করছে।
রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন। এরপর তিনি বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেনের আয়োজনে একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন এবং বিকেলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন। আগামীকাল ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আপনার মতামত লিখুন :