ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Global News

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসানীতি কঠোর: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসানীতি কঠোর: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের শিক্ষার্থীদেরই পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি ও দেশটিতে অবস্থানের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিমালার মাধ্যমে মূলত ভিসার ব্যাপক অপব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।

নতুন ভিসানীতিতে মোটা দাগে পাঁচ থেকে ছয়টি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, আগে যেখানে পাঁচ বছরের মেয়াদী ভিসা দেওয়া হতো, এখন থেকে তা চার বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি ‍‍`ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস‍‍`-এর মেয়াদও চার বছর করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতায়। আগে এই ক্ষমতা ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ডেজিগনেটেড স্কুল অফিশিয়াল বা ডিএসও-দের হাতে। এখন থেকে এই ক্ষমতা ডিএসও-দের হাত থেকে নিয়ে সরাসরি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তন ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে। আগে কোর্স শেষ করার পর দেশে ফেরা বা অন্য ভিসায় যাওয়ার জন্য ৬০ দিনের ‍‍`গ্রেস পিরিয়ড‍‍` পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডক্টরেট বা পিএইচডিসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক কোর্স সম্পন্ন করতে চার বছরের বেশি সময় লাগে। গবেষণার অর্থায়নে ঘাটতি বা ব্যক্তিগত কারণে এই সময় আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে নতুন নিয়মে চার বছরের সীমা বেঁধে দেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের শিক্ষার্থীরা জটিলতায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন মনে করেন, এতে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের খুব বেশি সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, “পিএইচডি প্রোগ্রামে এমনিতেও চার বছর পর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হতো। আগে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেই হয়ে যেত, এখন ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন, তাদের আবেদন অনুমোদিত হবে। কিন্তু যারা পড়াশোনা না করে স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসের অপব্যবহার করছেন, তাদের জন্যই মূলত ঝুঁকি বাড়বে।”

নতুন ভিসানীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত বছর স্নাতকোত্তর পড়তে যাওয়া বর্ণনা ভৌমিক বলেন, “কিছুদিন পর পর নিয়ম পরিবর্তনের কারণে আমরা কিছুটা চিন্তিত। তবে যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। যারা এক প্রোগ্রাম থেকে অন্য প্রোগ্রামে চলে গেছে বা পড়াশোনা বাদ দিয়েছে, তারাই বিপদে পড়বে।”

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি গবেষণারত শাহরিয়ার নোবেল মনে করেন, এই নিয়মটি যারা স্টুডেন্ট ভিসাকে ব্যবহার করে অন্য কিছু করে, তাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তবে যারা বৈধভাবে পড়াশোনা করেন, তাদের জন্য এটি ইতিবাচক, কারণ এর ফলে অনিয়ম বন্ধ হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পড়াশোনার পথ সুগম হবে।

আইনজীবী রাজু মহাজনের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টি তাদের ভোটারদের খুশি করতে নানা ঘোষণা দিচ্ছে, যার একটি অংশ এই ভিসানীতি হতে পারে। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঘোষিত পরিবর্তনের কিছু অংশ হয়তো কার্যকর থাকবে, তবে সবগুলো হয়তো দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ ও বৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই বাধ্যতামূলক করা, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা এবং ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলার জামানত বা ‍‍`ভিসা বন্ড‍‍` জমা দেওয়ার মতো একাধিক কঠোর পদ্ধতি চালু করেছে, যা নতুন এই ভিসানীতিরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!