স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে দেরি হওয়ায় এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির আবেদন আপাতত হার্ডকপিতে (ম্যানুয়ালি) গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকরা কাগজের মাধ্যমেই এই আবেদন জমা দিতে পারবেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হার্ডকপিতে প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর বদলির প্রস্তাব নির্ধারিত ছকে তৈরি করতে হবে। এরপর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদিত সেই প্রস্তাব আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানোর জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নীতিমালার ৩.১৯ বিধি অনুসরণ করে জনস্বার্থে শূন্য পদের বিপরীতে এই বদলির আবেদনগুলো গ্রহণ করা হবে।
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিজ জেলা ও পরিবার থেকে দূরে অবস্থান করায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। শিক্ষকদের এই দুর্দশা লাঘব করতে এবং বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার গত ২ জুন ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে।
নীতিমালা অনুযায়ী অনলাইনেই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তৈরি করা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারটি এখনো পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় অনলাইনে বদলি কার্যক্রম আটকে ছিল। এই স্থবিরতা কাটাতে এবং শিক্ষকদের স্বস্তি দিতেই সরকার সাময়িকভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফটওয়্যারটি চূড়ান্তভাবে চালু হওয়ার পর ভবিষ্যৎ বদলি কার্যক্রম নীতিমালার আলোকে পুরোপুরি অনলাইনেই পরিচালিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :