সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে চরম সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক স্কুলশিক্ষিকা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ এবং শিক্ষা বিভাগের তদন্তের উদ্যোগসহ নানা নাটকীয়তার সৃষ্টি হলেও অবশেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর একটি মন্তব্যে পুরো ঘটনার মোড় ঘুরে গেছে। শিক্ষিকার পক্ষে খোদ প্রতিমন্ত্রীর ইতিবাচক অবস্থানের পর তার বিরুদ্ধে আর কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা বা তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল নিজের ফেসবুকে একটি রিলস ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিফারেন্ট টাচ’-এর ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের ব্যাকগ্রাউন্ডে তাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে হাঁটতে দেখা যায়।
এই সাধারণ ভিডিওটি ঘিরেই সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক ট্রোল ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে এই সাইবার হয়রানির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাথমিক শিক্ষকরাও একই গান ব্যবহার করে নিজেদের প্রোফাইলে ভিডিও পোস্ট করে তার প্রতি অভূতপূর্ব সংহতি জানান।
এদিকে, ভিডিওটি বিকৃত ও অতিরঞ্জিত করে প্রচারের অভিযোগে গত ২৪ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই শিক্ষিকা, যার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের আইটি ফরেনসিক বিভাগ।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর বিউটি পাল সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠনের কথা ভেবেছিল সিলেটের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
কিন্তু সোমবার সিলেট সফরে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের জানান, তিনি শুনেছেন ওই ভিডিওতে অশ্লীল বা আপত্তিকর কিছুই নেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গান গাওয়া বা এমন ভিডিও করা কোনো অপরাধ হতে পারে না এবং তিনি এটি মানতে রাজি নন।
প্রতিমন্ত্রীর এই সুস্পষ্ট বার্তার পরই সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদ জানান, খোদ মন্ত্রী যখন বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, তখন এ নিয়ে শিক্ষা বিভাগের আর কোনো তদন্ত করার অবকাশ নেই। মূলত প্রতিমন্ত্রীর হস্তপেক্ষেই স্বস্তি ফিরেছে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই ঘটনায়। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :