সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
জেলা পুলিশের উদ্যোগে এবং জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সার্বিক সহযোগিতায় বুধবার (২৯ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা সরকারি হাসপাতালে দিনব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, পরীক্ষায় কোনো পরিবহন কর্মীর মাদক সেবনের প্রমাণ মিললে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর পরিবহন কর্মীদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েল এক্সপ্রেস, পূর্বাশা পরিবহন, জে আর পরিবহন, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, দর্শনা ডিলাক্স, গোল্ডেন লাইন, জননী, নদীয়া, সাথী পরিবহন, রেখা পরিবহন, মামুন পরিবহন, শামীম এন্টারপ্রাইজ, নিউ মডার্ন, সৌদিয়া ও বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিচিত পরিবহনের কর্মীরা রয়েছেন। হাসপাতাল চত্বরে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মাদকাসক্ত চালকদের বেপরোয়া যান চালানোর কারণে প্রায়ই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মূলত এসব অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতেই প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ।
যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেলা পুলিশের এই সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগকে ইতোমধ্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবহন মালিক, সাধারণ শ্রমিক এবং যাত্রীরা।
তাদের মতে, এমন উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে পরিবহন সেক্টরে মাদকের বিস্তার অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :