ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ চার খুন, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ চার খুন, গ্রেপ্তার ২

রংপুর নগরে বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

এর আগে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের ভবনের ওপর দিয়ে ওই শিক্ষকের বাড়ির ছাদে ঢুকে ইয়াবা সেবন করছিলেন। ছাদে মানুষের শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে যান এবং আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে খুনিরা ওই শিক্ষকের গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। তাঁর চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় তাঁকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

মায়ের চিৎকারে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাঁকেও গামছা ও রশি দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে অভিযুক্তরা। খুনিদের ভাষ্যমতে, প্রার্থীর মৃত্যু নিশ্চিত করতে প্রায় চার-পাঁচ মিনিট ধরে তাঁর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে রাখা হয়। সবশেষে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে তারা।

হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের পৈশাচিক আচরণের কথা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, চারজনকে হত্যার পর অভিযুক্তরা ওই বাসার বাথরুমে গোসল করে। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে তারা। ঘটনাটিকে ডাকাতি সাজাতে এবং তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে। আঙুলের ছাপ মুছতে বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়।

পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেলে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় খুনিরা। সেগুলো তারা নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেসব আলামত জব্দ করে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!