বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা এলাকার নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) মতে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরের মধ্যে এটিই গুমের প্রথম ঘটনা।
সংস্থাটির প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়ার আগে ওই জেলেকে সর্বশেষ কোস্টগার্ডের হেফাজতে দেখা গিয়েছিল। গত ১২ জুলাই এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রুল জারি করে নিখোঁজ জেলের বর্তমান অবস্থান ও অবস্থা আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিখোঁজ জেলের বোন লিজা ইসলাম অভিযোগ করেছেন, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় জয়মনির ঘোল এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হারবাড়িয়া স্টেশনের কোস্টগার্ড সদস্যরা তার ভাইকে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরে একটি স্পিডবোটে করে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর কোস্টগার্ডের স্থানীয় এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হলে তিনি মিরাজকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকে রাখার কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওই স্টেশনে গেলে তারা মিরাজ নামের কাউকে আটকের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
ভাইয়ের সন্ধান চেয়ে হারবাড়িয়া কোস্টগার্ড স্টেশনে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন লিজা। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কোস্টগার্ডের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে উল্টো কোস্টগার্ডের দায়ের করা মামলায় মিরাজের স্ত্রী, বোন ও মাসহ অনেক গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টানা ২৭ দিন কারাভোগের পর গত ৯ জুলাই তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
অন্যদিকে, মোংলা থানা পুলিশ জিডি নিতে অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল পরিবারের পক্ষ থেকে কেবল নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল, যেখানে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে সন্দেহ করা হয়নি।
আদালতের নির্দেশের বিষয়ে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হাইকোর্টের কোনো আদেশ বা নোটিশ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। নোটিশ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে পালনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। সূত্র:বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :