ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Global News

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে? নেপথ্যে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে? নেপথ্যে নতুন সমীকরণ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আসনে কে সমাসীন হচ্ছেন তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে জাতীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি কাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করবে, তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে বেশ কয়েকটি হেভিওয়েট নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, বর্তমান স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তবে দলীয় বলয়ের বাইরে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে যার নামটি ঘিরে দেশজুড়ে জোর আলোচনা চলছে, তিনি হলেন সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ রাজপথের আন্দোলন ও দল পরিচালনায় দক্ষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা দুসংদিনের কান্ডারী রুহুল কবির রিজভীর মতো পরীক্ষিত নেতাদের দলের ভেতরে রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।

অন্যদিকে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশ পরিচালনা করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন অনেকে।

এছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকেও স্থায়ীভাবে এই পদে রেখে দেওয়ার একটি ভাবনা দলে রয়েছে, যদিও অতীতে ১/১১-এর সময় তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, প্রধানমন্ত্রী ও দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির পদটি অলংকারিক হলেও আগামী দিনের রাজনীতি ও নির্বাচনকালীন স্থিতিশীলতার জন্য এই পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি কি তাদের কোনো বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক অভিভাবককে এই সর্বোচ্চ পদে বসাবে, নাকি ড. ইউনূসের মতো বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতি করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বার্তা দেবে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!