ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

ধামা ইলিয়াছের তথ্যে ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ৫, অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

ধামা ইলিয়াছের তথ্যে ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ৫, অস্ত্র উদ্ধার

মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজিসহ বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

তিনি জানান, রিমান্ডে ধামা ইলিয়াছকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যার সূত্র ধরেই পুলিশের এই সফল ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ কাজে লাগিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ২২ জুলাই মামলার অন্যতম আসামি ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে দুদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইলিয়াছ মূলত কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ২১টি মামলা রয়েছে। তার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলা পুলিশের সহায়তায় কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন, আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মো. শামীম এবং মো. সাফায়েত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে এবং একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি দেশীয় এলজিসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত এবং অস্ত্রের উৎস ও অর্থায়ন উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!