ক্ষেত থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছাতে এক কেজি কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষক যেখানে এক কেজি মরিচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন, সেখানে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের আড়তে তা ২০০ টাকা, ঢাকার পাইকারদের কাছে আড়াইশ থেকে ৩০০ টাকা এবং খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম ২১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে কাঁচা মরিচের বার্ষিক চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হলেও পণ্যটি পচনশীল হওয়ায় এবং জুলাই-আগস্টের বর্ষায় ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে এই তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমির মরিচ গাছ পচে যাওয়ায় ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ঢাকার কাওরান বাজার কিংবা মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমের এই ঘাটতি মেটাতে আগে থেকেই ভারত থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া থাকলে বর্তমান সংকট এড়ানো যেত; তবে দাম ৪০০ টাকার ঘরে পৌঁছানোর পর গত রোববার সরকারের পক্ষ থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ কমলেও কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকা হওয়াটা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। তবে বর্ষা মৌসুমে দামের এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আগামী বছর থেকে কৃষকদের প্রায় এক কোটি বিশেষ বস্তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে পানি জমে থাকবে না এবং বাড়ির আঙিনায় সহজেই মরিচ চাষ করা যাবে। এর পাশাপাশি পলিনেট হাউস ও পলিমার মালচিং পদ্ধতির মাধ্যমে বর্ষায় মরিচ ও টমেটো উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :