ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি চারতলা বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী, এক পুরুষ ও এক নবজাতকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজি হজরত আলীর মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত নারী ও পুরুষ গত ৯ আগস্ট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

প্রতিবেশীরা জানান, ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই ওই কক্ষের দরজা-জানালা প্রায় সব সময় বন্ধ থাকত। বাইরে থেকে তেমন কিছু বোঝাও যেত না। শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ তালাবদ্ধ ওই কক্ষ থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে আশুলিয়া থানা-পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাইরে থেকে তালা ভাঙলে বিছানার ওপর পড়ে থাকা তিনটি অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়। নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। এ সময় ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তালা ভেঙে ভেতর থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো থাকায় ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।’

তিনি জানান, লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম জানান, হত্যার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি এবং আশুলিয়া থানা-পুলিশের একাধিক দল যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!