চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বৈধ লাইসেন্স না থাকা এবং স্বাস্থ্যসেবার নিয়ম অমান্য করার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ওই ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর শনিবার সকালে সেখানে অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই।
বৈধ কাগজপত্র না থাকা ও স্বাস্থ্যসেবার শর্ত ভঙ্গের দায়ে ‘বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২’ অনুযায়ী ক্লিনিকের মালিক সুজা উদ্দিনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, ‘প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করি। লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে।
জানা গেছে, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ওই পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসায় অবহেলা ও লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকের কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :