ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি যুবক

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া গ্রামের আল মামুন (২৪) গত ৭ মে দেশ ছেড়েছিলেন রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশায়। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণায় তাঁকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়া হয় ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে।

সম্প্রতি সেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন এই যুবক। তাঁর মৃত্যুর খবরে চার মাসের মাথায় বিদেশযাত্রার স্বপ্নের বদলে এখন ওই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আট লাখ টাকার বেশি ঋণের বোঝা আর দুই অবুঝ শিশুসন্তান নিয়ে চরম দিশেহারা মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার ও মা রোকেয়া খাতুন।

মামুনের সঙ্গে একই ফ্লাইটে রাশিয়ায় গিয়ে ভাগ্যক্রমে দেশে ফিরে আসা ঝিনাইদহের রাজন হোসেন এই মৃত্যুর খবর পরিবারকে নিশ্চিত করেছেন। রাজনের ভাষ্যমতে, ‘জাবাল-এ-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনের চুক্তিতে তাঁরা ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। ৮ মে সেখানে পৌঁছানোর পর ১২ মে ব্যাংক ও সিম কার্ড দেওয়ার কথা বলে রুশ ভাষায় লেখা একটি চুক্তিতে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, সেটি ছিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তি। সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ১৪ জুন ড্রোন ও মাইন হামলায় তাঁদের দলের অন্তত ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন। আহত অবস্থায় পালিয়ে ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন রাজন এবং পরে এক রুশ কমান্ডারের মাধ্যমে তিনি মামুনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হন।

নিহত মামুনের স্ত্রী মহিমা জানান, ১৯ ও ২৬ আগস্ট কোনোমতে ইন্টারনেট সংযোগ পেয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সে সময় মাথার ওপর ড্রোন ঘোরার শঙ্কার কথা জানিয়ে মামুন সন্তানদের খেয়াল রাখতে বলেছিলেন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সহায়-সম্বল বিক্রি ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে এখন নিঃস্ব মা রোকেয়া খাতুন প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে ‘জাবাল-এ-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’সহ তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ইতিমধ্যে বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, পরিবারটিকে একটি লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদনটি পেলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে মরদেহ দেশে ফেরানো ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!