মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে হামলা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ০৫ ডলার বা ১ শতাংশ বেড়ে ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৯৫ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৪৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবমুখী হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির উত্তেজনা।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ জেসন টুভের মতে, হরমুজ প্রণালি ও সৌদি আরবে হামলা বাড়িয়ে ইরান ও তাদের মিত্ররা যুদ্ধে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানির মূল্য আরও বাড়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি জানিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। এমনকি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার বিষয়ে তারা আর পূর্বাভাস দিচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, আগামী বছরজুড়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যেই থাকতে পারে। এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সস্তা জ্বালানি ও যুদ্ধ শেষের দ্রুত প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
এসঅ্যান্ডপির বৈশ্বিক ক্রুড অয়েল গবেষণা বিভাগের প্রধান জিম বারখার্ড জানান, তেলবাজার এখন আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথে নেই, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, পরিবহন ব্যয় ও সুদের হারের ওপর আরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :