ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Daily Global News

বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক বরখাস্ত বেআইনি: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক বরখাস্ত বেআইনি: হাইকোর্ট

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা অপসারণের মতো গুরুতর শাস্তি দিতে হলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ‘আপিল ও সালিশ কমিটি’ কর্তৃক পরীক্ষিত হতে হবে। বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগে কোনোভাবেই গভর্নিং বডি নিজ থেকে কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে না বলে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অসদাচরণের অভিযোগে এক কলেজশিক্ষককে বরখাস্তের সিদ্ধান্তে বোর্ডের অনাপত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিট খারিজ করে এই রায় দেওয়া হয়। ‘মোহা. আখতারুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুলাই বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী এবং বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

গত ৩০ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো শিক্ষককে কারণ দর্শানোর যথোপযুক্ত সুযোগ না দিয়ে বা কেবল মৌখিক নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে তড়িঘড়ি করে বরখাস্ত করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের নভেম্বরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল মনসুরের বিরুদ্ধে অসদাচরণের একটি অভিযোগ ওঠে। এর জেরে গভর্নিং বডির সভাপতি ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোহা. আখতারুজ্জামানের কেবল মৌখিক বা মুঠোফোনের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে তদন্ত শেষ করে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।

পরে অনুমোদনের জন্য বিষয়টি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটিতে পাঠানো হলে তারা গভর্নিং বডির ওই বরখাস্তের প্রস্তাব নামঞ্জুর করে তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়।

শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে রিট করেছিলেন কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা মোহা. আখতারুজ্জামান। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছেন। তবে মামলাটি দীর্ঘ সময় বিচারাধীন থাকায় ভুক্তভোগী শিক্ষক ইতিমধ্যে অবসরগ্রহণের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছে গেছেন। ফলে তাঁকে আর সরাসরি পদে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

এর বদলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, পুনর্বহালের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাঁর বরখাস্তের তারিখ থেকে শুরু করে অবসরে যাওয়ার তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্য সব বকেয়া বেতন-ভাতা, চাকরিসংক্রান্ত যাবতীয় সুবিধা এবং প্রযোজ্য পেনশন সুবিধা পাওয়ার পূর্ণ অধিকারী হবেন। শিক্ষাবোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!