অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির দায়ের করা রিট খারিজ করে গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ নতুন এই আদেশ দেন। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে দাবিকৃত আয়করের পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুস সামাদ আজাদ জানিয়েছেন, রায়ের ফলে এখন যথাযথভাবে ডিমান্ড নোটিশ ইস্যু করে সরকার ওই রাজস্ব আদায় করতে পারবে, যা ২০১৭ সাল থেকে বকেয়া রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের নোটিশে কর পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তাঁরা পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করছেন। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের আয়কর বাবদ এক দশক আগে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি করে এনবিআর। মূলত ২০০৪ সালে গ্রামীণ কল্যাণ তাদের তহবিলের একটি অংশ গ্রামীণ টেলিকমকে ঋণ হিসেবে দেয়।
ওই অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণের তহবিলে জমা হওয়া অর্থকে আয়করযোগ্য বলে দাবি করে এনবিআর। তবে গ্রামীণ কল্যাণের দাবি ছিল, গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময়ই উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়, তাই কর পরিশোধের পর অতিরিক্ত কর ধার্য করা বেআইনি। এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে গত ৪ আগস্ট তৎকালীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। তবে ওই বেঞ্চের একজন বিচারপতি একসময় এই মামলাতেই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করায় রায়টি ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনায় পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি নতুন করে বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে পুনরায় শুনানি শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক ইউনূস একসময় এর চেয়ারম্যান থাকলেও ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি আর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত নেই।


আপনার মতামত লিখুন :